পাঁচ বছর অল্প সময়, এখনই কাজ শুরু করতে হবে: সিলেটে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ও সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় সীমিত, তাই এখন থেকেই উন্নয়ন কাজ শুরু করতে হবে। তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন।
বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম জেলা সফর।
নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, সিলেট ৪ আসনের ভোটারদের সমর্থনের ফলেই তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্বকে তিনি সিলেটবাসী ও তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের বিদ্বেষ নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। সফরের প্রথম দিন তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং হযরত শাহজালাল রহ. ও শাহপরাণ রহ. এর মাজার জিয়ারত করবেন বলে জানান।
সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য যে ধরনের সেবা কেন্দ্র রয়েছে, সিলেটে তা নেই। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে সেই সুবিধা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কাউন্সিলর থেকে মেয়র, পরে সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে মন্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সিলেটবাসীর সমর্থনের ফল। ভবিষ্যতেও তিনি জনগণের পাশে থাকতে চান।
চার দিনের সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন। শুক্রবার হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজার জিয়ারত ও জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন।
শনিবার তিনি মৌলভীবাজারে গিয়ে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। একই দিন বরুণা মাদ্রাসা পরিদর্শন, বরুণার পীর রশীদুর রহমান ফারুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাদা দাদীর কবর জিয়ারত শেষে কমলগঞ্জ হয়ে সিলেটে ফিরবেন।
সফরের শেষ দিন রোববার তিনি কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় দিনব্যাপী সফর করবেন। সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে ঢাকায় ফিরে যাবেন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা সফরে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়নই তার প্রধান অঙ্গীকার।