সিলেটে সম্প্রীতির রাজনীতি নিয়ে দর্পণ সম্পাদক মোহাম্মদ রহমত আলীর বিশেষ মন্তব্য কলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ভোটের লড়াই শেষে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্যের যে চর্চা হওয়া উচিত, তার একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছেন দুই রাজনৈতিক নেতা।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীতে মাওলানা হাবিবুর রহমানের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। সেখানে তারা কুশল বিনিময় করেন এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে শুভেচ্ছা আদান প্রদান করেন। নির্বাচনোত্তর এমন সাক্ষাৎ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে নির্বাচনের পরিবেশ, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জনগণের রায়কে মেনে নেওয়ার মনোভাবই একটি পরিণত রাজনীতির পরিচায়ক। স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু নির্বাচন শেষে জনস্বার্থই হবে সবার অগ্রাধিকার। অন্যদিকে মাওলানা হাবিবুর রহমান জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে এলাকার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও যাতে এ ধরনের রাজনৈতিক সহনশীলতা দৃশ্যমান হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য পরিচিত। তবে প্রতিযোগিতার তীব্রতার মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা সবসময় সম্ভব হয় না। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। বিভাজন নয়, সংলাপ ও সহমর্মিতাই যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, সিলেটের এই দৃশ্য যেন আমাদের সে কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।