শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা
শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে স্বল্পমেয়াদি একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার, যেখানে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৪ মার্চ সচিবালয়ে ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
সভায় আসন্ন অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষককে ট্যাব সরবরাহ এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়।
পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে একটি গাছ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রসারিত হবে।
উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করতে বিদেশে পড়তে আগ্রহীদের জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা চালু এবং হাফেজে কুরআনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এছাড়া আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক চর্চা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং এর বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।