চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ আখ্যা দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা, উদ্বেগ জানালো টিআইবি
সড়ক খাতে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে একটি গুরুতর অপরাধকে আড়াল বা বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির এমন ব্যাখ্যা সরকারের ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুক্রবার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন, এই বক্তব্য তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া অঙ্গীকারের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে সরকারের ঘোষিত নীতি ও প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, সড়ক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা অনৈতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার শামিল। এর ফলে পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, মালিকসহ সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি মনে করেন, কল্যাণের কথা বলে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর এবং খাতে বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে টিকিয়ে রাখার ঝুঁকি তৈরি করে।
বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হয়, তাহলে অন্যান্য খাতেও একই ধরনের যুক্তি প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে প্রশাসনিক সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দ্রুত প্রত্যাখ্যান করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, একই ধরনের ধারণা আগে প্রয়োগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই পথের পুনরাবৃত্তি কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় শুদ্ধি ও সংস্কার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় জনমনে হতাশা বাড়তে পারে এবং সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন শক্তির, যারা দেশের মূল চেতনা ও অর্জনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান ধারণ করে।
সততা, জবাবদিহি ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়—এই বাস্তবতা স্মরণ রেখে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।