সরকারি দলের গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণায় টিআইবির সাধুবাদ
সরকারি দলের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণাকে সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি। সংস্থাটি মনে করছে, এ উদ্যোগ দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলন ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে রায় প্রতিফলিত হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধকে তিনি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও কার্যকর দুর্নীতি দমন ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলীয় প্রভাব, ঘুষ, করফাঁকি ও অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকে যাবে। ফলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
টিআইবি মনে করে, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আয় ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা জরুরি। এ তথ্য বার্ষিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংশোধনী উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই টেকসই দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
টিআইবি আশা করছে, সরকারি দলের এই ঘোষণা কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে না, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব পরিবর্তনের পথ সুগম করবে।