জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফেরার ঘোষণা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হবে বাংলাদেশ ফার্স্ট। তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির ধারায় ফিরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ এই নীতিকে সামনে রেখেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, জাতীয় মর্যাদা ও পারস্পরিক সুবিধা—এই নীতিগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পররাষ্ট্র সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের সময়কার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ অর্জন, সার্ক প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বর্তমান সরকারও সেই সক্রিয় ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানে ফিরে যেতে চায় বলে জানান মন্ত্রী।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের প্রচেষ্টা চলবে।
নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কারও সন্দেহ থাকলে পুনরায় গণনার সুযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিজের ইচ্ছায় নয় বরং দায়িত্বের প্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান ও পারস্পরিক ধারণার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি সংবেদনশীল বিষয়। দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের মাধ্যমে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।