২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু বিএনপি সরকারের
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপটে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার প্রাক্কালে প্রকাশিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি ও বিদেশি উৎস মিলিয়ে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়েছে ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। একই সময়ে নিট বৈদেশিক ঋণ এসেছে ১০৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে প্রায় ১৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকার সমান।
সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে সরকারের নতুন ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। ফলে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং উৎস থেকে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালেও ৩২ শতাংশের বেশি ছিল, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সুদহার, বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণে চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি একটি বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা হবে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার।
ঋণের অঙ্ক যত বড়ই হোক, সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছ আর্থিক নীতিই পারে আস্থার নতুন ভিত্তি গড়তে। এখন প্রত্যাশা, সংখ্যার ভার নয়, দায়িত্ববোধের শক্তিই আগামী দিনের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।