সিলেটের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলের সংসদীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার সিদ্ধান্ত পরে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়।
ঘোষণায় বলা হয়, নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ শেষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। একই বৈঠকে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য ডিউটি ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারিভাবে প্লটও নেবেন না। দলীয় সূত্র মতে, এটি জনআস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সাশ্রয়ী রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকারের অংশ।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার খবরে সিলেট অঞ্চলেও বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ পারিবারিক সূত্রে তার সঙ্গে সিলেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলীর কন্যা।
ডা. জুবাইদা রহমান প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার, নিখিল ভারত আইন পরিষদের সদস্য এবং আসাম কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি আহমেদ আলী খানের নাতনি। তার পিতা মাহবুব আলী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময় মন্ত্রিত্বও করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী তার চাচা।
১৯৯৪ সালে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই পরিবারের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ফলে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে তারেক রহমানের অবস্থান সিলেটের সঙ্গে এক বিশেষ আত্মীয়তার বন্ধনকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন সরকারের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের এই মুহূর্তে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ ও ঐতিহ্যের এই সেতুবন্ধন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।