প্রথম ভোটেই জয়, কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রিসভায় আরিফুল হক চৌধুরী
জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন সিলেটের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরিফুল হক চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে নতুন মন্ত্রিসভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি নিরঙ্কুশ ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং রাত ১০টার দিকে ১৭২টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষ হয়।
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে কোম্পানীগঞ্জে ধানের শীষ পেয়েছে ৪৬ হাজার ৬৬৬ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ২০ হাজার ৮৯। গোয়াইনঘাটে ধানের শীষ ৯৭ হাজার ৪৮৪ এবং দাঁড়িপাল্লা ২৭ হাজার ৮৯৯ ভোট পায়। জৈন্তাপুরে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোট ৪৪ হাজার ১৯৬ এবং দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ২১ হাজার ৯৮৭। জাতীয় সংসদের এই আসনটি ২৩২ নম্বর হিসেবে পরিচিত।
আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। ২০০৩ সালে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে নগর নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটের কুমারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মো. শফিকুল হক চৌধুরী ও মাতা আমিনা খাতুন। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিলেট নগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সিলেট ৪ আসনের খনিজ সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাথর কোয়ারি পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নের অঙ্গীকার ছিল তার প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে সংসদ সদস্য এবং সেখান থেকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার স্বীকৃতি। এই উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সিলেটের রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।