টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন আমিনুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হকের নাম চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রস্তুতির মধ্যেই এ তথ্য সামনে আসে। একই দিনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল।
পাকিস্তানের ঢাকাস্থ হাইকমিশন জানায়, তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীতে এসেছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পূর্ব ও পশ্চিম ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে।
ভোটের শতকরা হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী অর্জন করেছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন ২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং রিকশা প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলগুলোর ভোটের হার এক শতাংশের নিচে।
এই নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তাদের কোনো প্রার্থী জামানত হারাননি। জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়, যার মধ্যে তিনজন জামানত হারান। জাতীয় পার্টি ১৯৮টি আসনে অংশ নিয়ে মাত্র পাঁচজন প্রার্থীর জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তাদের তিনজন প্রার্থী জামানত হারান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য দলের অধিকাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে পারেননি।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশি ও বিদেশি কূটনৈতিক উপস্থিতি যেমন বাড়ছে, তেমনি টেকনোক্র্যাট পদে মনোনয়ন নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে। পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কার্যকর প্রশাসন এবং জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নই এখন দেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।