মন্ত্রী হলে কী সুযোগ সুবিধা পান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা কী ধরনের বেতন ও সুযোগ সুবিধা পান তা নিয়ে জনমনে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ সংশোধনী আইন ২০১৬ এবং দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ সংশোধনী আইন ২০১৬ অনুযায়ী।
প্রধানমন্ত্রী মাসিক এক লাখ পনেরো হাজার টাকা বেতন পান। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া বাবদ এক লাখ টাকা এবং দৈনিক ভাতা হিসেবে তিন হাজার টাকা প্রাপ্য। তিনি একটি সরকারি বাসভবন পান, যার রক্ষণাবেক্ষণ, সজ্জা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকার বহন করে।
একজন পূর্ণমন্ত্রী মাসে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা বেতন পান। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ একই হারে বেতন পান। মন্ত্রীদের বেতনের ওপর আয়কর প্রযোজ্য নয়।
মন্ত্রীদের জন্য দৈনিক ভাতা দুই হাজার টাকা এবং নিয়ামক ভাতা মাসে দশ হাজার টাকা নির্ধারিত। স্বেচ্ছাধীন তহবিল হিসেবে বরাদ্দ থাকে দশ লাখ টাকা। মোবাইল ফোন ক্রয়ের জন্য এককালীন পঁচাত্তর হাজার টাকা দেওয়া হয়।
সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা পাওয়া যায়। ঢাকার বাইরে সরকারি সফরে অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি দেওয়া হয়, যার ব্যয়ও সরকার বহন করে। রেল ও বিদেশ ভ্রমণ সরকারি খরচে সম্পন্ন হয়। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আট লাখ টাকার বিমা সুবিধা থাকে।
মন্ত্রী সরকারি বাসভবনে থাকলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সব সেবা খাতের বিল সরকার বহন করে। সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়িভাড়া হিসেবে মাসে আশি হাজার টাকা এবং অন্যান্য সেবা খাতের বিল প্রদান করা হয়।
একজন মন্ত্রী প্রশাসনিক সহায়তার জন্য উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব, ক্যাডারের বাইরে থেকে একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা পান। এছাড়া জমাদার, আর্দালি, এমএলএসএস ও পাচক বা পিয়নসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মী থাকেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ ব্যয় এবং অন্তত দুইজন গৃহকর্মীর ভ্রমণ ব্যয়ও প্রাপ্য।
প্রতিমন্ত্রী মাসিক বিরানব্বই হাজার টাকা বেতন পান এবং এ আয়েও কর প্রযোজ্য নয়। দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং নিয়ামক ভাতা সাত হাজার পাঁচশ টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে সাত লাখ টাকা। সরকারি বাসভবনে থাকলে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র দেওয়া হয়। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়িভাড়া হিসেবে সত্তর হাজার টাকা এবং সেবা খাতের বিল প্রদান করা হয়। প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রেও একান্ত সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
উপমন্ত্রী মাসে ছিয়াশি হাজার পাঁচশ টাকা বেতন পান, যা করমুক্ত। দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং নিয়ামক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। মোবাইল ফোন ক্রয়ের জন্য পঁচাত্তর হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। সরকারি বাসভবন, আসবাবপত্র ও সহায়ক কর্মী সুবিধা প্রতিমন্ত্রীর অনুরূপ কাঠামোয় নির্ধারিত।
যারা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্য অতিরিক্ত সুবিধাও পান।
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য এসব সুযোগ সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার প্রশ্নও। শেষ পর্যন্ত পদমর্যাদার সুবিধার চেয়ে বড় বিষয় হলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা, কারণ মানুষের আস্থাই একজন মন্ত্রীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।