নতুন সরকারের যাত্রা শুরু আজ, শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব বদলের মধ্য দিয়ে আজ নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ এবং বিকেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানো হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। শপথ শেষে সংসদ সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন এবং পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তুলবেন। প্রয়োজনে একাধিক দফায় দলভিত্তিকভাবে শপথ সম্পন্ন হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
একইদিন বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্বে থাকবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি বিদেশি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার দুইশ অতিথি উপস্থিত থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সংসদ নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আবেদন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেবেন। শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনয়ন দেবেন এবং পরে তাদের শপথ পড়ানো হবে।
এদিকে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সংসদ সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করানো প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিতে উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো কিছু সিদ্ধান্ত ও কাঠামো নির্ধারিত হওয়ার পর অগ্রসর করা সম্ভব হবে।
সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি গতকাল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শপথ অনুষ্ঠান ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয়ের পাশাপাশি মন্ত্রীদের যানবাহন, নিরাপত্তা, আবাসন ও দাপ্তরিক সহায়তা ব্যবস্থা দ্রুত প্রস্তুতের বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে এবং স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে জয়ী হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির মিত্র দলগুলো পেয়েছে ৩টি আসন, সব মিলিয়ে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ২১২। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন, মোট ৭৭।
দিনের শেষে শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুধু ক্ষমতা গ্রহণের নয়, মানুষের ভোটাধিকার, প্রত্যাশা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রতিশ্রুতিও, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষের শান্তি ও মর্যাদার স্বপ্নটাই সবচেয়ে বড় ঠিকানা হয়ে থাকে।