দেড় বছরে সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর দেড় বছরে একবারও সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হননি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন না, বরং নির্ধারিত প্রেস উইংয়ের মাধ্যমেই তথ্য সরবরাহ ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এখানে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর পাঁচ দিন পর ১৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির ঢাকা ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলমকে প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রেস উইংয়ে উপপ্রেস সচিব হিসেবে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে ফয়েজ আহম্মদ এবং সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে সুচিস্মিতা তিথি ও নাঈম আলী দায়িত্ব পান।
দায়িত্ব পালনের সময় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন নিয়মিত ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত, নীতিগত ঘোষণা ও সরকারের চলমান কার্যক্রম সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রিফিং পরিচালনা করেছেন প্রেস সচিব ও উপপ্রেস সচিব। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকেও ব্রিফিং হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রেস রিলিজ, ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন কর্মসূচি কভার করতে বিশেষ শাখার যাচাইয়ের মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক সাংবাদিককে পাস দেওয়া হলেও সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ রাখা হয়নি। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আগে ও পরে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে তিনি কি গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। জবাবে প্রেস সচিব আন্তর্জাতিক চর্চার উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত প্রেস উইংয়ের মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনের পরও প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি সংবাদ সম্মেলন না হওয়ায় কিছু সাংবাদিকের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, অন্তত একবার সরাসরি প্রশ্নোত্তরের সুযোগ থাকলে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা পূরণ হতো।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক আস্থা যত দৃঢ় হবে, ততই শক্তিশালী হবে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জনবিশ্বাসের ভিত্তি।