সন্ধ্যায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি আজ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিতব্য এক আয়োজনে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে সই করা হবে।
সোমবার দলটির পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।
এর আগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন।
জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এনসিপি আগে থেকেই কয়েকটি শর্ত উত্থাপন করেছিল। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগের দিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটি সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিন দফা প্রস্তাব তুলে ধরে।
প্রথমত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করতে হবে এবং জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সরকারপ্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তা জারি করবেন। দলটির মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানই এই সনদের বৈধতার উৎস হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
দ্বিতীয়ত, সনদে উল্লিখিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়। গণভোটের প্রশ্ন আগেই চূড়ান্ত করে তা রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়।
তৃতীয়ত, গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিলে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সংবিধান সংস্কার করবে। প্রস্তাবিত সংশোধিত সংবিধানের নাম হবে বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো ও সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখেই রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতা দেশের স্থিতিশীল অগ্রযাত্রার ভিত্তি গড়ে তুলবে, এমন প্রত্যাশাই এখন নাগরিকদের।