১৮ মাসে সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব নয়, দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
সরকারে দায়িত্ব পালনকালে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে সফলতা কিংবা ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি মন্তব্য করেন, ১৮ মাসের সময়সীমায় কোনো সরকারের পূর্ণ সফলতা বা ব্যর্থতার বিচার করা হলে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কাজ পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই ছয় থেকে সাত মাস বা তারও বেশি সময় নেয়। বড় ধরনের সংস্কার বা নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়নে দেড় থেকে দুই বছরও পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি মনে করেন।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পায় কারণ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজের কাজের মূল্যায়ন জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলেন, সফলতা বা ব্যর্থতার খতিয়ান তিনি নিজে তুলে ধরতে চান না, জনগণই তা নির্ধারণ করবে।
রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন একটি সংকটাপন্ন সময়ে। সে প্রেক্ষাপটে অনেক উপদেষ্টাকেই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। পরিস্থিতি ছিল আপৎকালীন, তাই দায়িত্ব গ্রহণ ও তা পালন ছিল সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি না করে কিছু বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। সব কাজ সীমিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তবে ভবিষ্যৎ সরকার বাকি কাজ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, তারা একটি ন্যূনতম সন্তুষ্টি নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ছেন। সামনে যারা দায়িত্ব নেবেন, তাদের প্রতি শুভকামনাও জানান তিনি।
দায়িত্বের সময়সীমা যতই সীমিত হোক, সংকটকালে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। সময়ই শেষ পর্যন্ত বলে দেয় কোন প্রয়াস কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে।