ভিত্তিহীন সংবাদের ভয়ে নয়, সততা ও সাহসিকতায় এগিয়ে চলুক প্রশাসন
দর্পণ টিভি লন্ডন
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইন প্রয়োগ এবং সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সব অভিযোগ যেমন সত্য নয়, তেমনি সব সংবাদও বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না। কখনো কখনো অসম্পূর্ণ তথ্য, একপক্ষীয় বক্তব্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের কারণে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একজন সৎ ও দায়িত্বনিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, একজন কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতার মাধ্যমে। কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলেই একজন কর্মকর্তা অপরাধী হয়ে যান না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ তথ্যপ্রমাণ, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া।
প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারি দায়িত্ব মানেই শুধু ক্ষমতা প্রয়োগ নয়; বরং জনগণের আস্থা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা। এই দায়িত্ব পালনের পথে সমালোচনা আসতে পারে, অভিযোগ উঠতে পারে, এমনকি ভিত্তিহীন সংবাদও প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু এসব প্রতিকূলতার কারণে সরকারি কার্যক্রমে ভাটা পড়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়।
একজন সৎ কর্মকর্তা যদি আইন, বিধিবিধান ও নৈতিকতার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে ভিত্তিহীন সংবাদ তাঁর সততাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে না। সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি বা অস্বস্তি সৃষ্টি হলেও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে তাঁর অবস্থান আরও সুস্পষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৎ কর্মকর্তার সমালোচনা করা যাবে না, এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারি কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা, অনিয়মের অনুসন্ধান এবং জনগণের স্বার্থে সত্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে চরিত্রহনন কিংবা প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কখনো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।
সাংবাদিকতা ও প্রশাসন—উভয়ই রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একদিকে প্রশাসন আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে, অন্যদিকে গণমাধ্যম সেই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে অযথা বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা ও সত্যনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে আতঙ্কিত না হয়ে অভিযোগের প্রকৃতি যাচাই করা, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং যথাযথভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরাই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়। একই সঙ্গে সংবাদে প্রকৃত কোনো অনিয়ম উঠে এলে তা সংশোধন করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কর্তব্য।
রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপপ্রচার কিংবা অযৌক্তিক চাপের কাছে থেমে থাকতে পারে না। জনস্বার্থে গৃহীত আইনসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল, সততা ও পেশাদারত্ব। কারণ, একজন সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পদমর্যাদা নয়, বরং তাঁর নৈতিক অবস্থান ও জনগণের আস্থা।
মনে রাখতে হবে, সংবাদ প্রকাশ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়, আবার সরকারি পদে থাকা মানেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়। সত্যকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস থাকতে হবে। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার উচিত ভিত্তিহীন অভিযোগে মনোবল না হারিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজের দায়িত্ব অব্যাহত রাখা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এমন কর্মসংস্কৃতি গড়ে উঠুক, যেখানে সৎ কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন অপপ্রচারে নিরুৎসাহিত হবেন না, আবার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগও পাবেন না। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিটি সংবাদ হোক তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থমুখী।
কারণ, সততা কোনো সংবাদে হারিয়ে যায় না, আর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ভয় নয়—প্রয়োজন সাহস, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা।
ভিত্তিহীন সংবাদের ভয়ে নয়, সততা ও সাহসিকতায় এগিয়ে চলুক প্রশাসন
বিস্তারিত কমেন্টে
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন
Darpan TV UK
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
ভিত্তিহীন সংবাদের ভয়ে নয়, সততা ও সাহসিকতায় এগিয়ে চলুক প্রশাসন
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইন প্রয়োগ এবং সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সব অভিযোগ যেমন সত্য নয়, তেমনি সব সংবাদও বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না। কখনো কখনো অসম্পূর্ণ তথ্য, একপক্ষীয় বক্তব্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের কারণে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে একজন সৎ ও দায়িত্বনিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, একজন কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতার মাধ্যমে। কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলেই একজন কর্মকর্তা অপরাধী হয়ে যান না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ তথ্যপ্রমাণ, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া।
প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারি দায়িত্ব মানেই শুধু ক্ষমতা প্রয়োগ নয়; বরং জনগণের আস্থা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা। এই দায়িত্ব পালনের পথে সমালোচনা আসতে পারে, অভিযোগ উঠতে পারে, এমনকি ভিত্তিহীন সংবাদও প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু এসব প্রতিকূলতার কারণে সরকারি কার্যক্রমে ভাটা পড়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়।
একজন সৎ কর্মকর্তা যদি আইন, বিধিবিধান ও নৈতিকতার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে ভিত্তিহীন সংবাদ তাঁর সততাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে না। সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি বা অস্বস্তি সৃষ্টি হলেও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে তাঁর অবস্থান আরও সুস্পষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৎ কর্মকর্তার সমালোচনা করা যাবে না, এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারি কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা, অনিয়মের অনুসন্ধান এবং জনগণের স্বার্থে সত্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে চরিত্রহনন কিংবা প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কখনো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।
সাংবাদিকতা ও প্রশাসন—উভয়ই রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একদিকে প্রশাসন আইন ও সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে, অন্যদিকে গণমাধ্যম সেই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে অযথা বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা ও সত্যনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে আতঙ্কিত না হয়ে অভিযোগের প্রকৃতি যাচাই করা, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং যথাযথভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরাই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়। একই সঙ্গে সংবাদে প্রকৃত কোনো অনিয়ম উঠে এলে তা সংশোধন করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কর্তব্য।
রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপপ্রচার কিংবা অযৌক্তিক চাপের কাছে থেমে থাকতে পারে না। জনস্বার্থে গৃহীত আইনসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল, সততা ও পেশাদারত্ব। কারণ, একজন সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পদমর্যাদা নয়, বরং তাঁর নৈতিক অবস্থান ও জনগণের আস্থা।
মনে রাখতে হবে, সংবাদ প্রকাশ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়, আবার সরকারি পদে থাকা মানেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়। সত্যকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস থাকতে হবে। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার উচিত ভিত্তিহীন অভিযোগে মনোবল না হারিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজের দায়িত্ব অব্যাহত রাখা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এমন কর্মসংস্কৃতি গড়ে উঠুক, যেখানে সৎ কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন অপপ্রচারে নিরুৎসাহিত হবেন না, আবার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগও পাবেন না। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিটি সংবাদ হোক তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থমুখী।
কারণ, সততা কোনো সংবাদে হারিয়ে যায় না, আর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ভয় নয়—প্রয়োজন সাহস, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা।