গোয়াইনঘাটে আস্থার নতুন ঠিকানা ওসি ওমর ফারুক, দায়িত্বের প্রথম মাসেই সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠত্ব
সীমান্ত, পাহাড়, নদী আর পর্যটনকেন্দ্রিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নানা ধরনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এই বাস্তবতায় গত ৩ জুলাই ২০২৬ সালে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. ওমর ফারুক মোড়ল। দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বে থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনের অভিযানে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, জিআর সাজা পরোয়ানায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সিআর সাজা পরোয়ানায় ১১ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন রয়েছেন।
এ সময় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য জব্দের পাশাপাশি চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহন ও নৌযান জব্দের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের দায়িত্ব পালনের সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিগুলোর একটি আসে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই। জুলাই ২০২৬ সালের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা ও পরোয়ানা নিষ্পত্তি, আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে অবদানের জন্য তাঁকে সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত করা হয়। এ স্বীকৃতি তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে পুলিশের দায়িত্ব কেবল অপরাধী গ্রেপ্তার বা অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনের সময় আইনি সহায়তা দেওয়া এবং থানাকে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ওসি ওমর ফারুক থানাকে জনবান্ধব ও দালালমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া থানায় এসে আইনি সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ ও গণমাধ্যমের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অপরাধ দমন ও জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
দায়িত্ব পালনের সময়ে তাঁর মানবিক ভূমিকার একটি ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। রক্তের সংকটে থাকা এক প্রসূতি মাকে নিজের রক্ত দিয়ে সহায়তা করার ঘটনা তাঁর দায়িত্বের মানবিক দিকটি সামনে নিয়ে আসে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বের মানবিক মাত্রাকে তুলে ধরে।
ওসি মো. ওমর ফারুক তাঁর অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখেছেন। একটি থানার কার্যক্রম কখনো একজন কর্মকর্তার একক প্রচেষ্টায় সফল হয় না। নেতৃত্ব, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা মিলেই আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলে।
গোয়াইনঘাটের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে অপরাধ দমন, সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং জনসেবার বিষয়টি সামলাতে হয়। এই বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের কার্যক্রমে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জন্য জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু কোনো একটি পুরস্কার বা নির্দিষ্ট সময়ের পরিসংখ্যান দিয়ে হয় না। সময়ের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানুষের সঙ্গে আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবনের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।
গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কার্যক্রম ও অর্জন সেই ধারাবাহিকতার একটি সূচনা মাত্র। সামনে আরও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগে অপরাধ দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। গোয়াইনঘাট থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল তাঁর দায়িত্বকে শুধু একটি প্রশাসনিক পদ হিসেবে না দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানার কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।