সিলেটের ১১ থানায় জননিরাপত্তায় নিরলস পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসিত কার্যক্রম
সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় নিয়মিত টহল, অভিযান, আসামি গ্রেপ্তার, মামলা তদন্ত, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সিলেট রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা এবং সিলেট জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের নেতৃত্ব ও তদারকিতে মাঠপর্যায়ের এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা ও পুলিশি সেবা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সিলেটের কয়েকটি থানায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ নিজ নিজ সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
কানাইঘাট থানায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে। জৈন্তাপুর থানায় সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিট পুলিশিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার খবর পাওয়া গেছে। বিয়ানীবাজার থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানায় মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনে বিভিন্ন মামলায় ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় পণ্য উদ্ধারের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশও সীমান্ত ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করছে। বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানাতেও নিজ নিজ এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি অনুযায়ী টহল, অভিযান, আসামি গ্রেপ্তার, মামলা তদন্ত এবং জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলার প্রতিটি থানার কার্যক্রমের ধরন স্থানীয় বাস্তবতার ওপর নির্ভর করলেও সব থানার মূল লক্ষ্য একই। অপরাধ প্রতিরোধ, আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যেই থানার অফিসার ইনচার্জদের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাদক, চোরাচালান, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে পুলিশি নজরদারি ও টহল কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট জেলা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রেঞ্জ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের নেতৃত্ব এবং থানার অফিসার ইনচার্জদের মাঠপর্যায়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটের ১১ থানার পুলিশ সদস্যদের এই ধারাবাহিক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বটি আরও কার্যকরভাবে পালনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং জনগণের পাশে থাকার মানসিকতা নিয়ে জেলার প্রতিটি থানার পুলিশ সদস্য কাজ করে যাচ্ছেন।