অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম
সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধ দমন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে তাঁর নেতৃত্ব ও তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে প্রকাশিত সংবাদগুলোতে।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাইঘাট থানায় যোগদানের পর থেকে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান তাঁর দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অন্যতম দিক।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তাঁর দায়িত্বকালীন প্রথম আট মাসে কানাইঘাট থানায় চোরাচালানসংক্রান্ত ২৯টি মামলা দায়ের এবং ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮টি মামলা এবং ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। এসব অভিযানে ১ হাজার ৪৮৫ পিস ইয়াবা, ২৯৬ পিস ভারতীয় মদ, ১৫০ বোতল ফেনসিডিল, ৩২০ গ্রাম গাঁজা, ৪ লাখ ২০ হাজার শলাকা বিড়ি ও সিগারেটসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে জব্দ পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারেও তাঁর নেতৃত্বাধীন থানা পুলিশের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাইঘাটের মুক্তাপুরে ইসমাইল আহমদ হত্যা মামলার মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে মামলা দায়েরের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের এ অভিযান পুলিশের পেশাগত তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
এ ছাড়া কানাইঘাট পৌরসভার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৮০ কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়।
সেপ্টেম্বরে পৃথক অভিযানে ভারতীয় পণ্যসহ তিনজন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মাসে পৌরসভার রায়গড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অক্টোবর মাসেও গুরুতর অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে কানাইঘাট থানা পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে এসব কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মে মাসের মূল্যায়নে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন ওসি মো. আমিনুল ইসলাম। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার, সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদানের জন্য তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত করা হয়। সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক তাঁর হাতে সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এ অর্জন তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়। কানাইঘাটের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব দায়িত্ব পালনে ওসি মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রম বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
পেশাগত নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং অপরাধ দমনে ধারাবাহিক তৎপরতার মাধ্যমে ওসি মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। জেলা পর্যায়ে অর্জিত সম্মাননা এবং প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযানের সাফল্য তাঁর দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে।
কানাইঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর নেতৃত্বে থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।