জমি কেনার আগে জাল দলিল শনাক্তে যে ৯টি বিষয় যাচাই করবেন
জমি কেনার আগে জাল দলিল শনাক্তে যে ৯টি বিষয় যাচাই করবেন
জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে জমি কেনার আগে দলিল ও মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, ভুয়া আমমোক্তারনামা কিংবা নকল দলিলের মাধ্যমে প্রতারণা করতে পারে চক্রগুলো। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা কিংবা নিয়মিত তদারকি না হওয়া জমিতে এ ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি বেশি থাকে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জমি কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জমির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে কেনার সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
জালিয়াতি এড়াতে প্রথমেই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মূল নথির সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও নিবন্ধন নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো অসংগতি থাকলে লিখিত আবেদন করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দলিলে ব্যবহৃত সরকারি সিল ও স্বাক্ষর পরীক্ষা করতে হবে। সিল বা স্বাক্ষরে অস্বাভাবিকতা কিংবা সরকারি ছুটির দিনে নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।
জমির প্রকৃত মালিক শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং পুরোনো খতিয়ান পরীক্ষা করে মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। একই জমি নিয়ে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও সীমানার তথ্য যাচাই করতে হবে। বিক্রেতা আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জমি বিক্রি করলে ওই নথিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ছবি সংযুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
দলিলে উল্লেখিত তারিখের সঙ্গে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি দলিল প্রস্তুতকারী লেখকের পরিচয় জেনে প্রয়োজনে সরেজমিনে তথ্য যাচাই করতে হবে।
জমির আগের মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুরোনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং ভূমি কর পরিশোধের রসিদ সংগ্রহ করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া দলিলে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং সেগুলোর ক্রমিক নম্বর সঠিক কি না, তা পরীক্ষা করাও জরুরি।
জমি কেনার ক্ষেত্রে এসব যাচাই একাধিক ধাপে সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবী কিংবা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। যথাযথ সতর্কতা ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জমি কেনার সময় প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।