মাছের ঘের উচ্ছেদ ঘিরে লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, অস্বীকার যুবদল নেতার
চাঁদপুর ও শরীয়তপুর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা মাছের ঘের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর মাঝির বিরুদ্ধে এক ঘেরমালিকের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নেওয়া, আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি এবং গবাদিপশু ও হাঁস লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর মাঝি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর থেকে ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের মখদ্দি ও আশপাশের চরাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ঘেরমালিকদের। তাঁদের অভিযোগ, ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়ায় মাছ বেরিয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থাপনা, মাছের খাদ্য ও চাষের সরঞ্জাম নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা সব মিলিয়ে প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতির দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী ইকবাল পাটোয়ারী জানান, নরসিংহপুর ফেরিঘাটসংলগ্ন মখদ্দি এলাকায় প্রায় ৫৮ একর জমিতে তাঁর একাধিক মাছের ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ৮ কোটি টাকা। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে জাহাঙ্গীর মাঝি তাঁর কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। সর্বশেষ উচ্ছেদ অভিযানের সময় আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং তিনি ১০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন ইকবাল।
ইকবালের অভিযোগ, অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে লোকজন চলে যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর মাঝি ও তাঁর সমর্থকেরা ঘেরে হামলা চালিয়ে বাঁধ কেটে দেন। এ সময় ২৭টি গরু, ৭১টি ছাগল ও ৩০০টি হাঁস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
স্থানীয় মাহফুজ মিয়াও ঘেরের স্থাপনা ও মাছের খাদ্যে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি ভীতিকর হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলের সামনে যাওয়ার সাহস পাননি। অন্যদিকে ঘেরমালিক মমিন দিদার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে মাছ ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর মাঝি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইকবাল পাটোয়ারীর কাছ থেকে তিনি কোনো টাকা নেননি। অভিযানের সময় প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতেই ঘেরের বাঁধ কাটা হয়েছে এবং ইকবালের ঘেরে কোনো গরু ছাগল ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, স্থানীয়দের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে। তাঁর মতে, দুই এলাকার সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে একাধিক মামলা চলমান থাকায় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সীমানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এন এম জামিউল হিকমা বলেন, সরকারি জমি অনুমতি ছাড়া দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, লুটপাটের ঘটনা উপজেলা প্রশাসন ঘটায়নি। স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানিয়েছেন, লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উচ্ছেদ করা জমির কোনো অংশ শরীয়তপুরের মধ্যে পড়লে দুই জেলার জেলা প্রশাসক আলোচনা করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান তিনি।