মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ পাওয়া চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী পাচ্ছে সরকারি ল্যাপটপ
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভার কার্যবিবরণী থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাপ্ত ওই বিবরণী অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতির মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত প্রায় সত্তর হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিটির প্রথম বৈঠকে শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুল খালেক। তিনি জানান যে আগামী অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে সাতান্ন হাজার তিনশত এক কোটি আটষট্টি লাখ টাকা, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বিয়াল্লিশ দশমিক সাত শতাংশ বেশি। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং শিক্ষাবান্ধব এমন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মেধাবী শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রযুক্তি সামগ্রী প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ প্রদানের সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বৈঠকে উল্লেখ করেন যে শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়নের জন্য কেবল পাসের হারের কৃত্রিম সূচকে সীমাবদ্ধ না থেকে তিন বা ছয় মাস পরপর শিখনফল পরিমাপ করা জরুরি। কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া অভিমত দেন যে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে আমাদের সন্তানরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা ভাবনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার মতো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়, যাতে সময়ের পরিবর্তনেও মৌলিক পাঠ্যক্রমের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
সার্বিক শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও শিক্ষার গুণগত রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি সাত দফা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বমানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বছরভিত্তিক শিখনফল পরিমাপের রূপরেখা তৈরি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং অসুস্থ ও হজে গমনেচ্ছু শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পরিশোধ করা। কমিটির এমন দূরদর্শী পদক্ষেপ ও সুপারিশসমূহকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা।