কৃষিতে দক্ষ জনবল নিয়োগ ও সমন্বিত প্রকৌশল কাঠামো গঠনের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের
কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সমন্বিত কৃষি প্রকৌশল কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, কৃষিকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদনির্ভর খাতে রূপান্তর না করলে খাদ্য নিরাপত্তা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও কৃষি খাতে সমন্বয়হীনতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে কৃষি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি প্রকৌশলভিত্তিক একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কৃষির অধিকাংশ কার্যক্রম যান্ত্রিকীকরণের আওতায় এসেছে। বাংলাদেশেও টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো জরুরি।
তিনি হাওরাঞ্চলে প্রতিবছরের বন্যাজনিত ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি থেকে শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে কারিগরি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ এপ্রিলের আগেই বোরো ধান কাটার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম বলেন, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও লাভজনক হচ্ছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থাপনায় সৌরশক্তির ব্যবহার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিক ই রব্বানী। তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান এবং এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যসচিব প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।