জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ চট্টগ্রাম বন্দরের
চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা থেকে এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বুধবার ১২ মার্চ বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল ও ক্রুডবাহী মোট ১৫টি জাহাজ অবস্থান করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অবস্থান করা জাহাজগুলোর মধ্যে এলএনজিবাহী পাঁচটি, এলপিজিবাহী দুটি, গ্যাসবাহী দুটি, হাইপার সালফারবাহী দুটি, ডিজেলবাহী দুটি, ক্রুডবাহী একটি এবং কেমিক্যালবাহী একটি জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী প্রায় দেড় মাসের জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে পাইপলাইনে রয়েছে।
সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে শিউ চি ও লিয়ান হুয়ান হু নামের দুটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। শিউ চি জাহাজে প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন এবং লিয়ান হুয়ান হু জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার এসপিটি থেমিস নামের একটি ট্যাংকার তিন হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ১৪ মার্চ র্যাফেলস সামুরাই ও চ্যাং হ্যাং হং টু নামের আরও দুটি ট্যাংকার প্রায় ৬০ হাজার টন করে ডিজেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করবে।
এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের জলসীমায় রয়েছে। বিপিসির মাধ্যমে এসব জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
এদিকে আল জোর, আল জাসাসিয়া ও লুসাইল নামের তিনটি জাহাজ প্রায় দুই লাখ টন এলএনজি নিয়ে ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। বুধবার আল গালায়েল নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এই চারটি জাহাজে মোট আড়াই লাখ টনের বেশি এলএনজি রয়েছে।
অন্যদিকে কাতারের রাস লাফান বন্দরে ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে লিব্রেথা নামের একটি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে আটকে আছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকায় জাহাজটি এখনও বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, ৪১ হাজার ৪৮৮ টন এলপিজি নিয়ে এলপিজি সেভেন ও জি ওয়াই এম এম নামের দুটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। পাশাপাশি গ্যাসবাহী দুটি, হাইপার সালফারবাহী দুটি, ক্রুডবাহী একটি এবং তেল পরিশোধনে ব্যবহৃত কেমিক্যালবাহী একটি জাহাজও বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত এক মাসের জ্বালানি মজুত রাখা হলেও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এবার অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি ও এলপিজি কেনার প্রস্তুতি রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছালে দ্রুত অ্যাসেসমেন্ট ও ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করে বার্থিংয়ের ব্যবস্থা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উপস্থিত ছিলেন এবং জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো নাশকতার তথ্য না থাকলেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের অংশ হিসেবেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখা গেলে দেশের মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।