দেশে আবার বাড়ল ডলারের দাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আমদানি লেনদেন ও রেমিট্যান্স বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার কিনতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার ১০ মার্চ বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কিনছিল। তবে এদিন তা বেড়ে প্রায় ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। এর ফলে আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, সামনে ঈদের ছুটিতে টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী ওই সময়ের এলসি দায় পরিশোধ আগেই সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির প্রভাবও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পড়েছে। ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণে ওই অঞ্চলের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রবাসী আয়ের লেনদেনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক রেমিট্যান্স হাউস বেশি দামে ডলার প্রস্তাব করছে।
একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায় যে আমদানির এলসি নিষ্পত্তিতে ১২২ টাকা ৮০ থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দর লাগছে। আগের দিন এই দর ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫৭ থেকে ১২২ টাকা ৭২ পয়সা।
তিনি বলেন, ডলারের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ডলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তাই এখন বাজারে নতুন করে সংকট তৈরি না হয় সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে সোমবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আগের দিন যা ছিল ১২২ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।
এদিকে খোলাবাজারেও নগদ ডলারের দর বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ছিল প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কারণে ডলারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক নীতি সহায়তা থাকলে বাজার আবারও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।