পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম বন্ধ হবে না বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক চাপেই বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাজধানীতে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের ৩৭টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা অংশ নেন। সেখানে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে তারা ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা নিয়োগ দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি আদালতে মামলা পরিচালনা করছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে সঠিক আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ মূলত জনগণের সম্পদ। তাই তা উদ্ধার করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোরও দায় রয়েছে এবং তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ও আইন সংস্থার সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়কার অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১১টি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এসব দলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। তদন্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
তদন্তের আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের পাশাপাশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং জনগণের সম্পদ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।