আইসিটি খাতে তরুণদের নতুন পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বাড়ছে
দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আইসিটি খাতে কাজের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসছেন এবং বিনিয়োগকারীরাও এই খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সোমবার ৯ মার্চ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিটিআরসি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইসিটি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসিকে আরও সহজ ও জনবান্ধব নীতিমালা তৈরি করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন ও নীতিমালা যদি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব হয় তবে আগামী পাঁচ বছরে প্রযুক্তি খাতের মাধ্যমে জনগণের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ তার পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দীর্ঘ ২২ বছরের কর্মজীবনের মধ্যে প্রায় ১৫ বছর টেলিযোগাযোগ খাতে কাজ করেছেন। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ফাইবার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘে চিফ অব স্টাফ হিসেবে প্রায় সাত বছর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবার জন্য দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্যতম অগ্রাধিকার।
মতবিনিময় সভায় বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারীসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ একত্রিত হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। সেই সম্ভাবনাই এখন ভবিষ্যতের উন্নয়নের পথকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।