বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারের সহায়তা চাইলেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা
দেশের বেসরকারি খাতের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে থাকা জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উৎপাদকরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগাম জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে সামনে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। সোমবার ৯ মার্চ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড হাসনাত ও সাবেক সভাপতি ইমরান করিম সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের কাছে পাওনা বকেয়ার বিষয় তুলে ধরেন।
ইমরান করিম বলেন, কয়েকদিন আগ পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। বর্তমান মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই আসে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এসব কেন্দ্র চালু রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ এবং সময়মতো বিল পরিশোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে নয় মাস পর বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি আমদানি ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে সরকারের কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের প্রায় চৌদ্দ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এত বড় অঙ্কের বকেয়া রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও জানান তারা।
এ সময় জ্বালানি বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইমরান করিম বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তখন তুলনামূলকভাবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সাশ্রয় করতে পেরেছিল। বর্তমানে এলএনজির দাম আবারও বাড়তে থাকায় বিকল্প জ্বালানির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা সব সময় সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চায়। এই খাতে কাজ করতে গিয়ে দেশে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরি হয়েছে, যারা এখন নিজস্ব সক্ষমতা দিয়েই অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড হাসনাত বলেন, সামনে তীব্র গরমের সময় দেশে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হলে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনও এগিয়ে যাবে উন্নয়ন ও স্বস্তির পথে।