যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ, দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা, যাতে জনগণ স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
রোববার মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশন থেকে যাত্রা করে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপো পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় অদূর ভবিষ্যতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ, দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক হবে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল ইতোমধ্যে রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এটি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেলকে যোগাযোগ ব্যবস্থার মূলভিত্তি হিসেবে ধরে জনবহুল এলাকাগুলোতে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজধানীতে মেট্রোরেল, মনোরেল ও বাস সেবাকে সমন্বয় করে একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মেট্রোরেল প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রোববার সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেতু ও নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য সমস্যা আগে থেকেই চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি জানান, ঈদযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও ইন্টারসেকশনে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সভায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, ঈদের সময় সেতুর উভয় প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালু থাকবে, যাতে কার্ডধারী যানবাহন দ্রুত সেতু পার হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে উঠবে।