সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে সিলেট ৪৮ বিজিবির কঠোর নজরদারি
সুয়েব রানা: সিলেট
সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় সীমান্তে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। বিশেষ করে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকায় কঠোর সতর্কতা বজায় রেখে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার ৭ মার্চ বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, মহাপরিচালক বিজিবির নির্দেশনায় সীমান্ত সংলগ্ন শূন্যরেখা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য পাচার প্রতিরোধে সিলেট ৪৮ বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট, নদীপথ এবং চিহ্নিত রুটগুলোতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্র এবং পরিবহন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচারের যে কোনো প্রচেষ্টা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস, পুলিশ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা বিজিবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের একটি ফোঁটা জ্বালানি তেলও যেন অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের পাচার প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বদা সতর্ক প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশের সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং মর্যাদার প্রতীক। সেই মর্যাদা অটুট রাখতে বিজিবির সদস্যরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আর তাদের এই সতর্ক প্রহরা নিরাপদ বাংলাদেশের শক্ত ভিত্তি হয়ে রয়েছে।