হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ১২ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, স্বস্তি জ্বালানি ও শিল্পখাতে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করা কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
শনিবার ৭ মার্চ বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোট ১৫টি জাহাজের মধ্যে ১২টি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব জাহাজে জ্বালানি ও শিল্পকারখানার গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি, দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি এবং নয়টি জাহাজে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারসহ বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল সেগুলো এখন একে একে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। তার মতে, কয়েকটি জাহাজ এখনও বাংলাদেশের পথে রয়েছে এবং কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা আশপাশের বন্দরে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার, শিপিং লাইন, জাহাজ মালিক, পণ্য আমদানিকারক এবং নাবিকরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
খায়রুল আলম সুজনের মতে, যদি হরমুজ প্রণালি এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি না বাড়ে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সংকটময় এই সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নিরাপদে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো বাংলাদেশের জ্বালানি ও শিল্পখাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারণ সমুদ্রপথে ভেসে আসা প্রতিটি জাহাজ শুধু পণ্য নয়, বহন করে একটি দেশের অর্থনীতির গতি, শিল্পের চাকা সচল রাখার শক্তি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখার আশা।