স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ সদস্যরা, বললেন তথ্যমন্ত্রী
সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান এবং সংসদীয় আচরণবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা স্পিকারকে অভিভাবক হিসেবে মেনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
শনিবার ৭ মার্চ রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জানান, একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংসদ গড়ে তুলতে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত করতেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন, তারা যেন দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ অনুভব না করেন এবং সংসদীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান, সেই উদ্দেশ্যেই প্রশিক্ষণমূলক এই আয়োজন।
তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনায় স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারের নির্দেশনা মেনে চলা সংসদ সদস্যদের জন্য অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের কিছু নেতিবাচক সংসদীয় সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার দায়িত্বশীল সংসদ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সংসদ সদস্যদের দক্ষ ও প্রস্তুত করে তুলতেই এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
সংসদীয় কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন এবং সেই প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, যা নতুন নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু আইন প্রণয়নেই নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কারণ একটি সুস্থ ও কার্যকর সংসদ কেবল রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ নয়, এটি জনগণের আশা, আস্থা এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। সেই আস্থা ধরে রাখাই এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।