জুলাই না থাকলে সরকার ও নির্বাচন কিছুই থাকবে না, সতর্ক করলেন জামায়াত আমির
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু চব্বিশের চেতনাকে মুছে যেতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার ৬ মার্চ বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই যদি সেই ইতিহাস ও চেতনাকে অস্বীকার করা হয়, তাহলে সরকার, নির্বাচন বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বর্তমান অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায় ও সৎ কাজের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সব সময় সহযোগিতা করবে। তবে কোনো অন্যায় বা অনিয়মের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রয়োজনে প্রতিরোধও গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ। তিনি তার বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনা করেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এনসিপির নেতা সারজিস আলম বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইফতার মাহফিলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের চর্চা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই জাতীয় অগ্রযাত্রা এগিয়ে যেতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।