মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট জনবলের ঘাটতি রয়েছে এবং এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্বাস্থ্য কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ এই সভা হয়েছিল ২০০৯ সালে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সভা। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত ও যান্ত্রিক সমস্যা রয়েছে। ইসিজি মেশিন ও ডিজিটাল এক্স-রের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে একটি চাপপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চিকিৎসকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন।
তিনি জানান, হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা ১০ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। এর মধ্যে চারজন অন্য খাতে সংযুক্ত থাকায় কার্যত মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয় এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর জোর করে সেবা আদায় করা সম্ভব নয়। তাদের পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। এমনকি তাদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত বাথরুমও নেই। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী দেখতে হয়, যা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, দেবিদ্বার হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসকদের যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত না করে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব হবে না।
হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে পুরো হাসপাতালে মাত্র দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন, যেখানে অন্তত পাঁচজন প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ সময় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়া এবং প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগও ওঠে। এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চিকিৎসকদের ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে। চিকিৎসকরা আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, রোববার নতুন দুইজন চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দেবেন। এছাড়া হাসপাতালের ভবন পুনর্নির্মাণ করে চারতলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ছয় কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস ছালাম খান, আরএমও কবির হোসেন, ডা. মঞ্জুর, ডা. শাকিল ও ডা. সাদ্দাম।