শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত হালনাগাদ অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
বুধবার ৪ মার্চ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি জাপানকে বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতনের সুযোগ থাকার কারণে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই দেশভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জাপানে বাংলাদেশি কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল ফ্যাকাল্টি ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনার বিকল্প নেই।