এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বাংলাদেশের বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী সময়ের জন্য বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই সময়ে তিনি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।
সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ২ মার্চ ২০২৬ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঘোষণার ফলে এখন থেকে তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন ২০২১ এর ধারা ২ ক অনুযায়ী এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত এই আইনের আওতায় তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব শেষে প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষ নিরাপত্তা ও মর্যাদা দেওয়ার নজির নতুন নয়। অতীতেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টাকেও অনুরূপ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৬ এর আওতায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে দায়িত্ব ছাড়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার বিধান ছিল।
তবে এবারের প্রজ্ঞাপনে সময়সীমা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। যেখানে অতীতে এই মর্যাদার মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে তা নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ঘোষণাটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, বরং জাতীয় মর্যাদা রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দায়িত্ব পালন শেষে দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতি অবদান রাখা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।
রাষ্ট্রের কল্যাণে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি পরিপক্ব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয়। সেই ধারাবাহিকতায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচর্চার প্রতীক হয়ে থাকবে।