গুম করে ছোট কক্ষে রাখা হয়েছিল, মনে হয়েছিল জীবন্ত কবরে আছি, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী ইকবাল চৌধুরী
আওয়ামী লীগের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল জেআইসি নামে পরিচিত একটি স্থাপনায় গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ইকবাল চৌধুরী।
সোমবার ২ মার্চ বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল চৌধুরী দাবি করেন, তাকে অপহরণ করে একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে অবস্থানকালে তার মনে হয়েছিল তিনি যেন জীবন্ত কবরের মধ্যে আছেন।
সাক্ষ্যে তিনি জানান, পেশায় শিক্ষক ও ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ সালের পর বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখির কারণে তিনি নজরদারিতে ছিলেন বলে তার ধারণা। ২০১৮ সালের ৭ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়। তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয় বলে তিনি আদালতকে জানান।
ইকবাল চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়, চোখ বেঁধে মাথায় কাপড় পরানো হয় এবং হাতে হ্যান্ডকাফ লাগানো হয়। কিছু সময় গাড়ি চলার পর একটি গেটের ভেতরে প্রবেশের শব্দ পান। পরে তাকে নামিয়ে একটি স্থানে বসানো হয়, যেখানে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হয় এবং শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে চোখের বাঁধন ও হ্যান্ডকাফ খুলে তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে বলা হয়। তিনি বলেন, তাকে একটি ছোট কক্ষে রাখা হয়, যার আয়তন আনুমানিক আট থেকে দশ ফুট। সেখানে একটি ছোট চৌকি, পুরোনো বালিশ ও চাদর ছিল। কক্ষের দেয়াল ছিল অসমতল, ওপরে সারাক্ষণ একটি বাতি জ্বলত এবং একটি শক্তিশালী ফ্যানের উচ্চ শব্দ শোনা যেত। কক্ষের বাইরে লোহার শিক ও কাঠের দরজা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থতা বোধ করলে আদালত সাময়িকভাবে জবানবন্দি গ্রহণ স্থগিত রাখে।
উল্লেখ্য, মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত সবাই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আদালতে উপস্থাপিত এসব সাক্ষ্য দেশের অতীতের এক অধ্যায়ের বিচারিক পর্যালোচনার অংশ। বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে-এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।