তিনদিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার লক্ষ্যে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর তিনদিনের সফরে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ রাতে দিল্লি থেকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল। কর্মকর্তারা জানান, সফরে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকার ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসবে।
খসড়া সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকালে পল কাপুর ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ দিনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতি, প্রস্তাবিত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্যচুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নকে এই সফরের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে জিসোমিয়া ও আকসা নামে দুটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষাচুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী। জিসোমিয়া নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে অগ্রসর হয়েছে। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ঢাকায় আলোচনা করেছে এবং সম্প্রতি ওয়াশিংটনেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন ইস্যুও আলোচনায় আসতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন এবং আরও প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিক ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও প্রস্তাবিত সামরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। এর ধারাবাহিকতায় পল কাপুরের এই সফরকে ঢাকা ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে সম্ভাব্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় গঠনমূলক অংশীদারিত্বই হতে পারে স্থিতিশীল ও টেকসই অগ্রগতির চাবিকাঠি।