ঈদের আগেই শিল্প শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ নিশ্চিতের ঘোষণা
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মজুরি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগেই শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে উৎসবের আগে কোনো শ্রমিক আর্থিক অনিশ্চয়তায় না থাকেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তি পর্যায়ে কর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত আশপাশের দেশের তুলনায় কম। এ কারণে রাজস্ব আয় মূলত সরকারি ব্যয় মেটাতেই ব্যয় হয়ে যায় এবং উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। করের বোঝা বাড়ানো নয়, বরং ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত উন্নত করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। শুরুতে লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়েছিল, তবে তা ইতোমধ্যে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও এ ধরনের চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যেসব শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে সেগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সময়মতো পৌঁছানোর বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নদী খনন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতিতে রয়েছে। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
তিনি জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলছে। সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় চলমান ও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন শ্রমিক থেকে প্রবাসী-সবার মুখে নিশ্চিন্ততার হাসি ফুটে ওঠে। দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ও সুশাসনের মাধ্যমে সেই আস্থাই গড়ে ওঠে, যা একটি দেশের প্রকৃত শক্তির পরিচয় বহন করে।