জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির সাহসী ও ধারাবাহিক তৎপরতা
জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবির দায়িত্বে অবহেলার কারণে চোরাকারবারীদের রমরমা বাণিজ্য, এমন অভিযোগের বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসের কার্যক্রমের দিকে তাকালেই পাওয়া যায় ভিন্ন এক বাস্তবচিত্র। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা দিনরাত ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
জৈন্তাপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। ২ সেপ্টেম্বর রাতে জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযানে ১০০ বোতল ভারতীয় মদ ও ১০৭ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে ১৯ বিজিবি। এসব অভিযানের সিজারমূল্য ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা।
এরপর ৩ ও ৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করে ১৯ বিজিবি।
৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্তে আবারও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৯ বিজিবি। এসব অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, জিরা, সুপারি, চা পাতা, পিকআপ ও গরু জব্দ করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেটের বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির সদস্যরাও সেপ্টেম্বরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন।
২ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৬ লাখ ৮ হাজার ৬৯০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করে ৪৮ বিজিবি।
৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। অভিযানে ভারতীয় গরু, শাড়ি, জিরা, কসমেটিকস, চকলেট, কম্বলসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বরও ৪৮ বিজিবির বিভিন্ন বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করে।
১৩, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের অভিযানে প্রায় ২৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করে ৪৮ বিজিবি।
মাসের শেষ সপ্তাহেও বিজিবির অভিযান অব্যাহত ছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাই মালামাল এবং ২৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করে ৪৮ বিজিবি।
সেপ্টেম্বর মাসের এসব ধারাবাহিক অভিযানই প্রমাণ করে, সীমান্তে চোরাকারবারিদের তৎপরতা থাকলেও বিজিবি সদস্যরা বসে নেই। বরং নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই আটক করা হচ্ছে।
চোরাচালান একটি সংঘবদ্ধ ও জটিল অপরাধ। দুর্গম সীমান্ত এলাকা, পাহাড়ি পথ, নদীপথ এবং অসংখ্য ছোট বড় রুট ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন সময় অবৈধ পণ্য পারাপারের চেষ্টা করে থাকে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বিজিবির সদস্যরা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
কোথাও চোরাচালানের চেষ্টা হয়েছে, এটিকে একমাত্র বিবেচনা করে বিজিবির পুরো কার্যক্রমকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে দেখানো বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না। বরং নিয়মিত অভিযান, জব্দকৃত পণ্যের পরিমাণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতাও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ১৯ বিজিবি ও ৪৮ বিজিবির সদস্যরা সাহস, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই আটক হচ্ছে।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি বিজিবি সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের এই সাহসী ভূমিকা আরও শক্তিশালী হোক, এটাই সচেতন সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা।
চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়তে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।