ইরান চুক্তিতে উন্মোচিত হলো মার্কিন আধিপত্যের সীমা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক জেরেমি বোয়েন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত ও সমঝোতা প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে পারে।
তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে পড়েছে। এসব দেশের নীতি পুনর্গঠন ও কূটনৈতিক অবস্থান নতুনভাবে সাজাতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারা এখন কূটনৈতিক নির্ভরতা একক শক্তির ওপর না রেখে বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন কাঠামো খোঁজার বিষয়ে আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে চীনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেরেমি বোয়েনের মতে, শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটলে এই সমঝোতা একটি দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রতিপক্ষ ইরানের সক্ষমতাকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় উঠে আসা সমঝোতা স্মারক পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয় বরং একটি প্রাথমিক কাঠামো, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ও পরের সময়ের মধ্যে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে, যেখানে একাধিক হামলা, পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
শেষ পর্যন্ত বোয়েনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যদিও সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ঘাটতি এবং আদর্শগত বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।