বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, ভারতের কড়া জবাব
ভারতে বিক্ষোভকারীদের গণহারে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগের জবাবে একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে শত শত বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সংস্থাটির মুখপাত্র থামিন আল খিতান এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার পুরোপুরি সম্মান ও নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এর জবাবে ভারতের জাতিসংঘবিষয়ক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। দেশটির সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এ অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে এবং অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার জন্য আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত। ভারতের দাবি, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের বড় বিক্ষোভের প্রতিও জাতিসংঘের সমান মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে দলটির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া দলটির সমর্থকদের দিল্লিতে আসা ঠেকাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেয় পুলিশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দলটির শীর্ষ নেতারা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি তখনো আটক ছিলেন।