সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের খবরের পর উৎকণ্ঠায় সুইটির পরিবার, আগের দিন কথা হয় বাবার সঙ্গে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সুইটি আক্তারের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির নারীকে সুইটি বলে শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। তবে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, সুইটি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির কথা বলে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। এ জন্য নতু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয় বলেও জানান স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি আটক হন। তবে পরিবার আটকের খবর পায় প্রায় এক বছর পরে। ফোনে সুইটি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি মারামারির মামলায় আটক হওয়ার কথা বললেও সৌদিতে থাকা তার এক বান্ধবী পরিবারকে জানান, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা জহুরা বেগম। বাবা ফজলু মিয়া অপেক্ষা করছেন মেয়ের ফিরে আসার আশায়। সুইটির বাবা জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। তখন সুইটি আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এর দুই দিন পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের উদ্বেগ বেড়ে যায়।
সুইটি জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই চলছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জানার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবের মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য গত ১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হিসেবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে সুইটির পরিবার এখনো তার পরিণতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।