হরমুজ নিয়ে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
ইরানের দেওয়া শান্তি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার লেনদেনের এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করে।
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত সপ্তাহে ইরান সামরিক সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে ওই উদ্যোগ পৌঁছানোর কথা জানায় তেহরান। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার কথা জানান। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আরও আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানান।
গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী ব্রেন্টের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। বিপরীতে একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ডব্লিউটিআইয়ের দামে বড় পতন হয়েছিল। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদনও কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরবরাহ বাড়ানোয় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। সোমবার কেপলারের প্রাথমিক জাহাজ চলাচল তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি ওই অঞ্চলের সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাড়ার কারণেই রপ্তানি বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।