ভেদরগঞ্জের হোটেলকক্ষে শিক্ষকের মরদেহ, ফোনে ২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রীর কাছে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। টাকা না দিলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে স্বজনদের দাবি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা সেতুসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসার জন্য টাকা দাবি করা হয়। স্ত্রী তাঁর অবস্থান জানতে চেয়ে সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বললেও নির্দিষ্ট ঠিকানা জানানো হয়নি। একপর্যায়ে ওই ফোন থেকে তাঁকে শুয়ে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও পাঠানো হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্বজনদের ভাষ্য, টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি। উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের সূত্র ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তাঁর অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে হোটেলকক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাগ্নে কবির হোসেন জানান, তাঁর মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। শুরুতে তাঁকে বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হলেও সোমবার তাঁর মোবাইল ফোন থেকে অন্য এক ব্যক্তি দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আরেফীন জানান, হোটেল থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য দল কাজ করবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবি, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং হোটেলমালিকের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।