হামলার আশঙ্কায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের
ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো এক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় তাঁরা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগ্নেয়াস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন জানান, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও করেন। মাদকের আস্তানার আশপাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযানে অংশ নেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। একই ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, অভিযান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ছবি এবং খণ্ডিত শিরোনামের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। ফলে অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পাঠকের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা ৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।