এআইতে নারী সেনাসদস্যের পরিচয়, ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার এবং নারীর পরিচয়ে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন কৌশলে ওই প্রবাসী ও তার মায়ের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, পিবিআই ঢাকা জেলা জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ হিসাবের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এসব তথ্য জানান।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের ২২ বছর বয়সী ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খানের সঙ্গে ফেসবুকে লেডি সোলজার ও নারী যোদ্ধা নামে একটি পেজের মাধ্যমে পরিচয় হয়। ওই পেজে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, তোফায়েল নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীর মতো কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে ফোন ও ইমোতে যোগাযোগ করেন এবং একপর্যায়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানিয়েছে, পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ এবং নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তোফায়েল নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা জানিয়েও বিভিন্ন সময়ে অর্থ নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীর মা প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তের সময় প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ মনজুর রহমান বিভিন্ন তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান বলে জানিয়েছে পিবিআই। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে সক্ষম এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয়ের পর ইমোতে একইভাবে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।
পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না এবং নেওয়া অর্থের বিষয়ে আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।